ঢাকা ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনাম :

পাবনায় ৩৮১ বস্তা সার জব্দ, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

রাজশাহী সমাচার ডেস্কঃ
  • আপডেট সময়: ১১:০২:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১০ টাইম ভিউ

পাবনা সদর উপজেলার দুবলিয়া বাজারে অনুমোদন ছাড়া অবৈধভাবে সার মজুত ও বিক্রির অভিযোগে পরিচালিত পৃথক অভিযানে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় বেআইনিভাবে মজুত করা ৩৮১ বস্তা বিভিন্ন ধরনের সার জব্দ করা হয়।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের দুবলিয়া বাজারে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে দুবলিয়া বাজারের ‘আবু বকর বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ’-এ অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় লাইসেন্স ব্যতিরেকে অবৈধভাবে সার মজুত ও বিক্রির অপরাধে ‘সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬’ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একইসঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ১৩০ বস্তা অবৈধ সার জব্দ করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামারা তাসবিহা এবং সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাকিরুল ইসলাম।

একই সময়ে বাজারের অপর ব্যবসায়ী আবদুল মান্নানের গুদামে অভিযান চালান জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে বেআইনিভাবে মজুত করা ২৫১ বস্তা টিএসপি, ডিএপি ও ইউরিয়া সার জব্দসহ ওই ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাবনা ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন।

জব্দকৃত সারের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন জানায়, আবু বকর বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ থেকে জব্দ করা সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ব্যবসায়ী আবদুল মান্নানের গুদাম থেকে জব্দ করা সার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, আগামী বুধবার সকাল থেকে জব্দকৃত এসব সার দুবলিয়া বাজারের সাধারণ কৃষকদের মাঝে সরাসরি সরকার নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হবে।

পাবনা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি বলেন, ‘ডিএপি সার কৃষকরা বাজারে পাচ্ছেন না। এমওপি ও অন্যান্য সারের চাহিদাও ব্যাপক। অথচ আব্দুল মান্নানের গোপন গোডাউনে বিপুল সার মজুত ছিল। গোডাউনের তালা ভেঙে আমরা এসব সার পেয়েছি।’

তিনি বলেন, অভিযানের সময় আব্দুল মান্নানকে পাওয়া যায়নি। তবে সারগুলো আপাতত জব্দ করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তার জিম্মায় এগুলো রাখা হয়েছে। পরে প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সারগুলো বিক্রি করা হবে।

মাহমুদ হাসান রনি আরও বলেন, অভিযুক্তকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবেন না- এ মর্মে তার কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হবে।

অভিযান শেষে পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামারা তাসবিহা সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি, অবৈধ মজুত কিংবা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

টপিক

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনায় ৩৮১ বস্তা সার জব্দ, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

আপডেট সময়: ১১:০২:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাবনা সদর উপজেলার দুবলিয়া বাজারে অনুমোদন ছাড়া অবৈধভাবে সার মজুত ও বিক্রির অভিযোগে পরিচালিত পৃথক অভিযানে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় বেআইনিভাবে মজুত করা ৩৮১ বস্তা বিভিন্ন ধরনের সার জব্দ করা হয়।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের দুবলিয়া বাজারে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে দুবলিয়া বাজারের ‘আবু বকর বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ’-এ অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় লাইসেন্স ব্যতিরেকে অবৈধভাবে সার মজুত ও বিক্রির অপরাধে ‘সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬’ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একইসঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ১৩০ বস্তা অবৈধ সার জব্দ করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামারা তাসবিহা এবং সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাকিরুল ইসলাম।

একই সময়ে বাজারের অপর ব্যবসায়ী আবদুল মান্নানের গুদামে অভিযান চালান জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে বেআইনিভাবে মজুত করা ২৫১ বস্তা টিএসপি, ডিএপি ও ইউরিয়া সার জব্দসহ ওই ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাবনা ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন।

জব্দকৃত সারের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন জানায়, আবু বকর বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ থেকে জব্দ করা সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ব্যবসায়ী আবদুল মান্নানের গুদাম থেকে জব্দ করা সার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, আগামী বুধবার সকাল থেকে জব্দকৃত এসব সার দুবলিয়া বাজারের সাধারণ কৃষকদের মাঝে সরাসরি সরকার নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হবে।

পাবনা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি বলেন, ‘ডিএপি সার কৃষকরা বাজারে পাচ্ছেন না। এমওপি ও অন্যান্য সারের চাহিদাও ব্যাপক। অথচ আব্দুল মান্নানের গোপন গোডাউনে বিপুল সার মজুত ছিল। গোডাউনের তালা ভেঙে আমরা এসব সার পেয়েছি।’

তিনি বলেন, অভিযানের সময় আব্দুল মান্নানকে পাওয়া যায়নি। তবে সারগুলো আপাতত জব্দ করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তার জিম্মায় এগুলো রাখা হয়েছে। পরে প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সারগুলো বিক্রি করা হবে।

মাহমুদ হাসান রনি আরও বলেন, অভিযুক্তকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবেন না- এ মর্মে তার কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হবে।

অভিযান শেষে পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামারা তাসবিহা সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি, অবৈধ মজুত কিংবা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।